মা—নারী
- May 5, 2016
- 2 min read
For Part- 1 follow the link> http://sumeru.wix.com/my-blogs#!মা/c95u/5729e2510cf28b370be3cdff

কোনো কোনো ব্যক্তির জীবনে তার মায়ের অসাধারণ ভূমিকা বা অবদান থাকতে পারে, এবং তার জন্য সেই ব্যক্তি তার মায়ের প্রসংশায় পঞ্চমুখ হলে, তা’ হবে খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু কেউ যদি অন্ধ-আবেগের বশে— জগতের সব মায়েরই গুণকীর্তন শুরু করে দেয়, তাহলে তা’ হবে পাগলামো— তা’ হবে আদিখ্যেতা।
অনেক অন্ধ-ভক্তি-মার্গীকে বলতে শুনেছি, “শত অপরাধ করলেও— মা-বাবার দোষ ধরতে নেই, —তাদের সমালোচনা করতে নেই।”
এ’হলো— অতীতের রাজতন্ত্রের কুপ্রভাব। রাজতন্ত্রের কায়েমি স্বার্থকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে— এইসব নিয়ম-নীতি চালু করা হয়েছিলো একসময়, —ধর্মের সহায়তা নিয়ে। বলা হয়েছে, —‘রাজা—ব্রাহ্মণ—গুরু আর মাতা-পিতা —এদেরকে ঈশ্বরজ্ঞানে পূজো করতে হবে, এবং এরা সমালোচনার ঊর্ধে থাকবে’।
কিন্তু একজন প্রকৃত জ্ঞানমার্গীর কাছে— কেউই সমালোচনার ঊর্ধে নয়। এমনকি ঈশ্বরও নয়। একজন আত্মজ্ঞানী মানুষ— যে আত্ম-সমালোচনা করতে সক্ষম, সে প্রয়োজনে সবার সমালোচনা করতে পারে। তবে, সে একপেশে বিচার করেনা, করে সবদিক থেকে সম-আলোচনা।
একজন মহিলা— সহজাত প্রবৃত্তির বশবর্তী হয়ে সন্তানের জন্ম দেওয়ার কারণে ‘মা’ হয়ে ওঠে। জগতের ব্যবস্থামতো এটাই ঘটে চলেছে। এর মধ্যে আহামরি কিছু নেই। আহামরি হবে তখনই, যখন কোনো সচেতন মানুষ (মা-বাবা উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য) কামদাস না হয়ে, সজাগ-সচেতনভাবে —পূর্বাপর বিচার ক’রে, প্রকৃত মানুষগড়ার উদ্দেশে— সঠিক পথ ও পদ্ধতি অনুসরণ ক’রে— সুসন্তান উতপাদনে সক্ষম হবে।
অধিকাংশ মানুষেরই সুসন্তান উতপাদন এবং যথাযথভাবে সন্তান পালন সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই। এরা সন্তানকে আর কিছু দিতে পারুক আর নাই পারুক, বংশগত রোগ-ব্যাধির ভাগ অবশ্যই দিয়ে থাকে —নিজেদের অজান্তেই।
“যদি...... তবে জন্ম দিয়েছিলে কেন?” —আজকাল কিছু কিছ সন্তানের মুখ-নিসৃত এইরূপ উক্তি মাঝেমাঝে কানে আসে, যা তাদের মা/বাবার উদ্দেশে প্রচন্ড ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। অনেকে শুধুমাত্র সেই সন্তানদেরকেই দোষারোপ ক’রে থাকে, তাদের এই দুর্ব্যবহারের জন্য। কিন্তু এর জন্য মূলতঃ দায়ি তাদের মা-বাবা। তারা তাদের করণীয় কর্ম ঠিকমতো করেনি বলেই, আজ তাদের এই কথা শুনতে হচ্ছে। মা/বাবা হওয়া মোটেই মুখের কথা নয়, এ’ এক গুরু দায়িত্ব, —যা অনেকেই ঠিকমতো পালন করতে পারেনা, বা পালনে অক্ষম।
আজ সারা পৃথিবী জুড়ে অন্ধ-বিশ্বাস এক বড় সমস্যা। অনেক মায়ের কোলই হলো এই অন্ধ-বিশ্বাসের আতুরঘর। ছোটছোট ছেলে-মেয়েদের কঠিণ রোগ-ব্যাধি হলে, চিকিতসক যেমন তাদের মা-বাবার মধ্যে এবং তাদের বংশে সেই রোগের বীজ লুকিয়ে আছে কি-না খোঁজ নেন। তেমনি, ছোটছোট ছেলে-মেয়েদের আচরণগত ত্রুটি বা সমস্যার ক্ষেত্রেও মনোবিদ তাদের মা-বাবার আচরণগত ত্রুটি আছে কি-না অনুসন্ধাণ ক’রে থাকেন। লোভ—ঈর্ষা—ভয়—হিংসা-বিদ্বেষ, মিথ্যাচার—পরনিন্দা—কুসংস্কার এইরকম অনেক কিছুই সন্তানরা শিখে থাকে তাদের মায়ের কাছ থেকে। মা-বাবা এই ব্যাপারে সচেতন না থাকার ফলে, এবং সন্তান গ্রহনের পূর্বে নিজেদেরকে বিকশিত মানুষ ক’রে না তোলার কারণে, ভবিষ্যতে তাদেরকে এবং সমাজকে এর বিষময় ফল ভোগ করতে হয়।












































Comments