top of page

মহাধর্ম এবং অন্যান্য ধর্ম

  • Aug 8, 2017
  • 2 min read

‘মহাধর্ম’ হলো মানুষের মৌলিক ধর্ম— মানবধর্ম। অন্যান্য ধর্ম হলো অন্ধ-বিশ্বাস ভিত্তিক আরোপিত ধর্ম। ‘মহাধর্ম’ মূলতঃ যুক্তি ও বিজ্ঞান ভিত্তিক ধর্ম। মানববিকাশ মূলক ধর্ম।
অন্যান্য ধর্মের লক্ষ্য— ঈশ্বরলাভ, ঈশ্বরের কৃপা লাভ, স্বর্গলাভ প্রভৃতি। মহাধর্মের অন্তিম লক্ষ্য— ঈশ্বরত্ব লাভ। তবে, ঈশ্বরত্ব লাভ হলেও, বিকাশমান চেতনার পথে— এই মানব-চেতন-স্তরে ঈশ্বরত্ব লাভ সম্ভব নয়, সে অনেক দূরের ব্যাপার, তাই, মহাধর্ম-মত-অনুসারে এই মানব-জীবনের আপাত লক্ষ্য হলো— পূর্ণ বিকশিত মানুষ হয়ে ওঠা। উচ্চ থেকে ক্রমোচ্চ— আরো কয়েকটি চেতনস্তর পার হয়ে— অন্তিমে আমরা ঈশ্বর-চেতন-স্তরে পৌঁছাবো। এই জীবনে পূর্ণ বিকশিত মানুষ হয়ে ওঠা— মানবত্ব লাভই এই ধর্মের প্রধান লক্ষ্য।
অন্যান্য ধর্মের প্রধান ধর্ম-কর্ম হলো— নিয়মিতভাবে ঈশ্বর উপাসনা, প্রার্থনা এবং নিজনিজ ধর্মীয় রীতি-নীতি শাস্ত্র অনুসারে ধর্মানুষ্ঠান প্রভৃতি সম্পন্ন করা। মহাধর্মের প্রধান ধর্ম-কর্ম হলো— যুক্তি ও বিজ্ঞানভিত্তিক পথে— সচেতনভাবে মনোবিকাশ— মানববিকাশ ও সুস্থতা লাভের জন্য কর্তব্য কর্ম করা। যুক্তিবাদী হয়ে— জ্ঞানের পথ ধরে সুস্থ-সমৃদ্ধ-সুন্দর জীবন লাভ করাই একজন মহাধর্মীনের লক্ষ্য, এবং তার জন্য কর্তব্য কর্মই হলো মহাধর্মের ধর্ম-কর্ম।
আপনিও কি একই পথের পথিক? আসুন, আমরা সবাই মিলে এক উন্নত পৃথিবী গড়ে তুলি।
প্রতিটি মানুষই বিকাশলাভ করে চলেছে। বিকাশলাভই মানুষের মৌলিক ধর্ম— স্বভাবধর্ম। তবে, শরীর-মনের অবস্থা, পরিবেশ-পরিস্থিতি, সুযোগ-সুবিধা, বাধা-বিঘ্ন-অভাব, প্রতিকূলতা, সুস্থতা-অসুস্থতা, সু বা কু শিক্ষা প্রভৃতি সাপেক্ষে কারো বিকাশ ঘটছে খুব ধীর গতিতে, আবার কারো বিকাশ ঘটছে স্বচ্ছন্দে— সঠিকভাবে। কেউ সমগ্র আয়ুষ্কালের মধ্যে অতি সামান্যই বিকশিত হতে পারছে, কেউ যথেষ্ট বিকাশলাভে সক্ষম হচ্ছে।
এই বিকাশ হলো— মনোবিকাশ— আত্ম-বিকাশ— চেতনার বিকাশ। যার ফল স্বরূপ ঘটে মানব বিকাশ।
একটা পোষ্য চারাগাছকে যেমন প্রয়োজনীয় আলো—বাতাস—জল—খাদ্য, পরিচর্যা ও সুরক্ষা দিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যথেষ্ট বিকশিত করে তোলা হয়, মহাধর্মও তেমনিভাবে একজন মহাধর্মানুসারীর সার্বিক বিকাশ ঘটাতে সাহায্য করে থাকে।
এখানেও কিছুকিছু নিয়ম-নীতি-পদ্ধতি আরোপ করা হয়ে থাকে, তবে তা’ করা হয়, বিকাশের প্রয়োজনে— বাধা-বিঘ্ন-প্রতিকূলতা অপসারণের জন্যে, শরীর-মনের সুস্থতা লাভের প্রয়োজনে।
অন্ধ-বিশ্বাস হলো বিকাশের পরিপন্থি। তাই, অন্যান্য ধর্ম সরাসরি মানুষের বিকাশ ঘটাতে পারেনা। তাছাড়া, যথেষ্ট বিকাশ ঘটলে মানুষ আর ধর্মের বাঁধনে বাঁধা থাকেনা, তাই, অন্যান্য ধর্ম— প্রকৃত বিকাশ ঘটুক তা’ চায়না। ‘মহাধর্ম’ মানুষকে বিভিন্ন প্রতিকুলতা ও বন্ধন থেকে মুক্তির পথ দেখায়।
মানব ধর্মই মহাধর্ম। যার মূল কথা হলো— মানব বিকাশ।

মানবদেহী বা মানবদেহধারী হলেই যে সে মানবত্ব লাভ করেছে অথবা তার আয়ুষ্কালের মধ্যেই মানবত্ব লাভ করতে পারবে, তেমন নয়। মানবত্ব লাভ হলো— পূর্ণবিকশিত মানুষ হয়ে ওঠা। মানব জীবনের প্রথম ও প্রধান লক্ষ্যই হলো— মানবত্ব লাভ।

একজন মানবদেহী (মানবদেহ ধারী) যে ধর্মরূপ পথ ও পদ্ধতি অবলম্বন ক’রে মানবত্ব লাভ করতে পারে, সেই ধর্মই হলো— মানবধর্ম।

নানা মতবাদ অনুসরণ ক’রে ঈশ্বর ও স্বর্গরূপ মরীচিকার পিছনে অন্ধের মতো ছুটে চলা— মানবধর্ম নয়।

দেবত্ব এবং তৎপরবর্তী ঈশ্বরত্ব আমাদের মধ্যেই সুপ্তাবস্থায় এবং বিকাশের অপেক্ষায় রয়েছে। দেবত্ব এবং ক্রমে ঈশ্বরত্ব লাভের জন্য আমাদেরকে মানবত্ব লাভ করতে হবে সর্বাগ্রে।

কর্ম ও ভোগের মধ্য দিয়ে— জ্ঞান-অভিজ্ঞতা লাভের মধ্য দিয়ে— ক্রমশ মনোবিকাশ তথা চেতনার বিকাশ লাভ করা— আমাদের স্বভাবধর্ম। কিন্তু, আমাদের ভিতরে—বাইরে—চারিপাশে বিকাশের অনুকূল অবস্থা না থাকায়, নানা প্রতিকূলতা থাকায়, বিকাশ-উপযোগী ব্যবস্থা গ্রহন —আবশ্যক হয়ে পড়ে।মানবধর্মই হলো সেই অত্যাবশ্যক ব্যবস্থা। একটা চারাগাছের সঠিক বিকাশের জন্য যেমন যত্ন-পরিচর্যা-সুরক্ষাসহ পুষ্টি ও সুস্থতার জন্য ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়, এ-ও ঠিক তেমনি।

মানুষের প্রকৃতি অনুযায়ী— বহু পথ বা মার্গ ধরে মানুষ অগ্রসর হয়ে থাকে। তার মধ্যে নিম্নগামী পথগুলি বাদ দিয়ে কর্মপথ—ভক্তিপথ—জ্ঞানপথ –এসবই মিলিত হয়েছে মহাধর্ম পথে। কর্ম ব্যতীরেকে ভক্তিপথ-জ্ঞানপথ –কোনো পথেই অগ্রসর হওয়া সম্ভব নয়। আবার জ্ঞানপথেও ভক্তি থাকে। সে হলো জ্ঞানের প্রতি ভক্তি— সত্যের প্রতি ভক্তি। তবে তা’ অন্ধ ভক্তি নয়। অন্ধভক্তির পথ হলো নিম্নমূখী পথ –অধঃপতনের পথ।

ধর্মরূপ যে যুক্তিসম্মত পথ-পদ্ধতি ও ব্যবস্থা— একজন মানবদেহীকে মানবত্ব লাভে সাহায্য করে— তা-ই হলো মানবধর্ম। আর, এই মানবধর্মই— মহাধর্ম।

 
 
 

Comments


Follow Me
  • Twitter Long Shadow
  • Google+ Long Shadow
  • Facebook Long Shadow
  • LinkedIn Long Shadow
Search By Tags
RSS Feed

© 2014  by Sumeru Ray   created with Wix.com

পাঠক/পাঠিকাদের প্রতি নিবেদনঃ-  সহৃদয়—সক্ষম পাঠক/পাঠিকাগণ যদি স্বইচ্ছায় কোনো লেখা অনুবাদে ইচ্ছুক হোন, তাহলে লেখকের সাথে যোগাযোগ করুণ।  আপনাদের মূল্যবান মতামত ও পরামর্শের জন্য জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ।  

bottom of page